|
- সৌদি আরবে অবস্থানকালে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, সিগন্যাল পড়লে রাস্তা পার হোন৷ রাস্তা পার হওয়ার সময় অবশ্যই ডানে-বাঁয়ে দেখেশুনে সাবধানে পার হবেন৷ কখনো দৌড় দেবেন না৷
হাঁচি কিংবা কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার মুখ ঢেকে নিন৷ শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করুন এবং ক্ষতস্থানটি প্লাস্টার কিংবা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন৷
সৌদি আরবে অবস্থানকালে কোনো চাঁদা ওঠানো, সাহায্য চাওয়া, ভিক্ষা করা দণ্ডনীয় অপরাধ৷ সুতরাং এগুলো থেকে বিরত থাকুন৷ মনে রাখবেন, মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের সীমানার মধ্যে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৷ কাবা শরিফ ও মসজিদে নববীর ভেতরে কিছুদূর পরপর পবিত্র কোরআন মজিদ রাখা আছে আর পাশে জমজম পানি (স্বাভাবিক ও ঠান্ডা) খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷ হজযাত্রীদের যাবতীয় তথ্য, দেশের পরিবার-পরিজনের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছানো যায়৷ হারানো হজযাত্রীদের খুঁজে পাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ হজ মিশনে বিজনেস অটোমেশন লি. আইটি হেল্প ডেস্ক সাহায্য করে৷ কোনো ধরনের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় পড়লে বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিকেল সদস্যদের (চিকিৎসক) সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷ হজের সময় হজযাত্রীদের যেন কোনো রকম কষ্ট না হয়৷ আপনার ট্রাভেল এজেন্সি আপনাকে যথাযথ সুবিধাদি (দেশ থেকে আপনাকে থাকা, খাওয়াসহ অন্য যেসব সুবিধার কথা বলেছিল) না দিলে আপনি মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ মিশনকে জানাতে পারেন৷ এতেও আপনি সন্তুষ্ট না থাকলে সৌদির ওয়াজারাতুল হজকে (হজ মন্ত্রণালয়) লিখিত অভিযোগ করতে পারেন৷ মদিনা থেকে যদি মক্কায় আসেন, তাহলে ইহরামের কাপড় সঙ্গে নিতে হবে৷ আরাফাতের ময়দানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে খাবার, জুস, ফল ইত্যাদি দিয়ে থাকে৷ ওই সব খাবার আনতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়, তাই সাবধান থাকবেন৷ মুজদালিফায় রাতে থাকার জন্য প্লাস্টিকের পাটি পাওয়া যায়৷ মক্কায়ও কিনতে পারবেন৷ আরাফাতের ময়দান থেকে যদি হেঁটে মুজদালিফায় আসেন, পথে টয়লেট সেরে নেবেন৷ কেননা মুজদালিফার টয়লেটে অনেক ভিড় লেগে যায়৷ হজ মন্ত্রণালয় মিনার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (যেখানে হজযাত্রীদের সহজে চোখে পড়ে) কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে পৃথিবীর প্রায় ১৮টি ভাষায় বিভিন্ন জরুরি দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলায় প্রচার করে৷ হজের বেশির ভাগ সময় হজযাত্রীদের মিনায় তাঁবুতে অবস্থান করতে হয়৷ তাই মিনাকে এক হিসেবে তাঁবুর শহর বলা যায়৷ চারদিকে তাঁবু আর তাঁবু-সব তাঁবু দেখতে একই রকম৷ মোয়াল্লিম নম্বর বা তাঁবু নম্বর জানা না থাকলে যে কেউই হারিয়ে যেতে পারেন৷ বিশেষ করে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বড় অংশ বৃদ্ধ বয়সে হজ করতে আসেন৷ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখেন না৷ অনেকে হারিয়ে ফেলেন গন্তব্য৷ বাংলাদেশি হজযাত্রী কিছু আছেন সচেতন, তাঁরা বাদে বাকিরা তাঁবু নম্বর মনে রাখতে পারেন না৷ সব তাঁবু দেখতে একই রকম হওয়ায় পথ হারিয়ে ফেলেন৷ বাংলাদেশের পতাকা বা বাংলায় কথা বলা শুনে প্রবাসী বাংলাদেশি হজকর্মীরা তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন৷ এ সমস্যা এড়ানোর জন্য যে তাঁবুতে অবস্থান করেন, সেসব তাঁবু চিহ্নিত করে নিন৷ মোয়াল্লিম অফিস থেকে তাঁবুর নম্বরসহ কার্ড দেওয়া হয়; তা যত্নে রাখুন৷ বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে রাখুন৷ হজযাত্রী সচেতন থাকলে হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই৷ অনেক বাংলাদেশি হারিয়ে যাওয়ার কারণে হজের আহকাম বা নিয়ম-কানুন ঠিকমতো পালন করতে পারেন না৷ মক্কা-মদিনায় প্রচুর বাংলাদেশি হোটেল আছে৷ মক্কার হোটেলগুলোর নাম ঢাকা, এশিয়া, চট্টগ্রাম, জমজম ইত্যাদি৷ এসব হোটেলে ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল-সবই পাওয়া যায়৷ হোটেল থেকে পার্সেলে বাড়িতে খাবার নিয়ে দুজন অনায়াসে খেতে পারেন৷ মক্কা-মদিনায় প্রচুর ফলমূল ও ফলের রস পাওয়া যায়৷ এগুলো কিনে খেতে পারেন৷ মক্কা-মদিনায় অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন, তাই ভাষাগত কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷ কেনাকাটার সময় দরদাম করে কিনবেন৷ হজের সময় প্রচুর হাঁটাচলা করতে হয়, পকেটে টাকা থাকলেও যানবাহন পাওয়া যায় না৷ মিনায় চুল কাটার লোক পাওয়া যায়৷ নিজেরা নিজেদের চুল কাটবেন না, এতে মাথা কেটে যেতে পারে৷ মিনায় কোনো সমস্যা হলে হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ হজ মিশনের তাঁবুতে যোগাযোগ করবেন৷ মক্কা-মদিনা থেকে বাংলাদেশে কম খরচে ফোন করা যায় (কোনো বাংলাদেশিকে বললে দেখিয়ে দেবেন)৷ সৌদি আরবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চাইলে সঙ্গে সেট নিয়ে যাবেন, ওখানে (হজ প্যাকেজ) মোবাইল সিম কিনতে পাওয়া যায়৷ হজের আগে ও পরে আরও উমরাহ করতে চাইলে ‘তানঈম মসজিদ’-এ (উমরাহ মসজিদে) গিয়ে উমরাহর নিয়ত করে আসা যায়৷ কাবা শরিফের বাইরে বাস অথবা ট্যাক্সিতে উমরাহ মসজিদে যাওয়া যায়৷ মসজিদে নববীতে নারীদের জন্য আলাদা নামাজ পড়ার জায়গা আছে৷ Discovery Channel Program - Revealed The Hajj
|