|
মক্কা মদিনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান মদিনার প্রাণকেন্দ্র মসজিদে নববী ইসলামে ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে তিন মসজিদে ভ্রমণ করার অনুমোদন আছে৷ এর মধ্যে প্রথমটি হলো মক্কা মুকাররমা বা কাবা শরিফ (সৌদি আরব)৷ দ্বিতীয়টি হচেছ মসজিদ আল-আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস: ইসলামের প্রথম কিবলা মসজিদ (ফিলিস্তিন)৷ তৃতীয়টি হলো মদিনা আল-মুনাউওয়ারার মসজিদে নববী: নবীজিকে যেখানে চির শয়নে শায়িত করা হয়েছে৷ মদিনা নবীর শহর, একে আরবিতে বলা হয় ‘মদিনাতুন নবী’৷ আর মদিনার প্রাণকেন্দ্র হলো ‘মসজিদে নববী’৷ মদিনার ৯৫টি নাম রয়েছে, যেমন দারুস সালাম (শান্তির ঘর)৷ তা ছাড়া মদিনার ৯৯টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনার বরকতের জন্য দোয়া করেছেন, একে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করেছেন৷ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, ঘর থেকে অজু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ পড়লে একটি উমরাহর সওয়াব পাওয়া যায়৷
মসজিদে নববীর ভেতরে স্বয়ংক্রিয় ছাদের ব্যবস্থা আছে, যা দিনের বেলা সুইচের মাধ্যমে খুলে দেওয়া হয় আর রাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ মসজিদে নববীতে নারীদের জন্য আলাদা নামাজ পড়ার জায়গা আছে৷ ভেতরে কিছুদূর পরপর পবিত্র কোরআন মজিদ রাখা আছে, আর পাশে আছে জমজম পানি খাওয়ার ব্যবস্থা৷ পাশেই ‘জান্নাতুল বাকি’ গোরস্তান৷ এখানে হজরত ফাতেমা (রা.), বিবি হালিমা (রা.) ও হজরত ওসমান (রা.)সহ অগণিত সাহাবায়ে কিরামের কবর রয়েছে৷ এর একপাশে নতুন কবর হচেছ প্রত্যহ৷ মসজিদে নববীর উত্তর দিকের গেট দিয়ে বেরিয়েই সাহাবাদের মসজিদ৷ পাশাপাশি দু’টি এবং একটি একটু দূরে একই ডিজাইনে করা তিনটি মসজিদ৷ এগুলোকে ‘সাহাবা মসজিদ’ বলা হয়৷ মসজিদে নববীতে সালাত আদায় ও দোয়া করার উদ্দেশ্যেই মদিনায় গমন এবং সালাত আদায় করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারত করা ও সালাম পৌঁছানোর ইচছা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের থাকে৷ জিয়ারত ও নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া সুন্নত৷ মসজিদে নববীতে নামাজ পড়ায় ফজিলত বেশি৷ মসজিদে নববীতে জিয়ারতের জন্য ইহরাম বাঁধতে বা তালবিয়া পড়তে হয় না৷ তবে মদিনা থেকে যদি মক্কায় আবার আসতে হয়, তাহলে মিকাত বীর আলী পার হলে ইহরাম বেঁধে আসতে হবে৷ মসজিদে নববীর কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান
রওজায়ে জান্নাত বা রিয়াজুল জান্নাহ: হুজরায়ে মোবারক ও মিম্বার শরিফের মাঝখানের জায়গাটি ‘রওজায়ে জান্নাত’ বা ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ বা ‘বেহেশতের বাগান’ নামে পরিচিত৷ এ স্থানটির বিশেষ ফজিলত রয়েছে৷ এখানে নামাজ পড়ারও বিশেষ ফজিলত আছে৷ মসজিদে নববীর ভেতরে কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে সেগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বা খুটি বলে ৷ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তৈরি মসজিদে খেজুর গাছের খুঁটিগুলোর স্থানে উসমানী সুলতান আব্দুল মাজিদ পাকা স্তম্ভ নির্মাণ করেন৷ এগুলোর গায়ে মর্মর পাথর বসানো এবং স্বর্নের কারুকাজ করা ৷ প্রথম কাতারে ৪টি স্তম্ভের লাল পাথরের এবং পাথর্ক্য করার সুবিধার জন্য সেগুলোর গায়ে নাম অংকিত রয়েছে৷ উস্তুওয়ানা হান্নানা (সুবাস স্তম্ভ): মিম্বারে নববীর ডান পাশে খেজুরগাছের গুঁড়ির স্থানে নির্মিত স্তম্ভটি৷ নবী করিম (সা.) মিম্বার স্থানান্তরের সময় এ গুঁড়িটি উঁচু স্বরে কেঁদেছিলেন৷ উস্তুওয়ানা সারীর: এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ই’তিকাফ করতেন এবং রাতে আরামের জন্য তাঁর বিছানা এখানে স্থাপন করা হতো৷ এ স্তম্ভটি হুজরা শরিফের পশ্চিম পাশে জালি মোবারকের সঙ্গে রয়েছে৷ উস্তুওয়ানা উফুদ: বাইরে থেকে আগত প্রতিনিধিদল এখানে বসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং এখানে বসেই কথা বলতেন৷ এ স্তম্ভটিও জালি মোবারকের সঙ্গে রয়েছে৷ উস্তুওয়ানা আয়েশা (আয়েশা স্তম্ভ): নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার মসজিদে এমন একটি জায়গা রয়েছে, লোকজন যদি সেখানে নামাজ পড়ার ফজিলত জানত, তাহলে সেখানে স্থান পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করত৷’ স্থানটি চিহ্নিত করার জন্য সাহাবায়ে কিরাম চেষ্টা করতেন৷ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হজরত আয়েশা (রা.) তাঁর ভাগ্নে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) কে সে জায়গাটি চিনিয়ে দেন৷ এটিই সেই স্তম্ভ৷ এই স্তম্ভটি উস্তুওয়ানা উফুদের পশ্চিম পাশে রওজায়ে জান্নাতের ভেতর৷ উস্তুওয়ানা আবু লুবাবা (তওবা স্তম্ভ): হজরত আবু লুবাবা (রা.) থেকে একটি ভুল সংঘটিত হওয়ার পর তিনি নিজেকে এই স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধে বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত হুজুরে পাক (সা.) নিজে না খুলে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এর সঙ্গে বাঁধা থাকব৷’ নবী করিম (সা.) বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে আল্লাহ আদেশ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত খুলব না৷’ এভাবে দীর্ঘ ৫০ দিন পর হজরত আবু লুবাবা (রা.)-এর তওবা কবুল হলো৷ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দিলেন৷ এটি উস্তুওয়ানা উফুদের পশ্চিম পাশে রওজায়ে জান্নাতের ভেতর অবস্থিত৷ উস্তুওয়ানা জিবরাইল: ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.) যখনই হজরত দেহইয়া কাল্বী (রা.)-এর আকৃতি ধারণ করে ওহি নিয়ে আসতেন, তখন অধিকাংশ সময় তাঁকে এখানেই উপবিষ্ট দেখা যেত৷ মিহরাবে নববী: মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে এখানে নফল নামাজ পড়–ন৷ মিহরাবের ডানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাঁড়ানোর জায়গা৷ মদিনার কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদ
কিবলাতাঈন মসজিদ: এ মসজিদে একই নামাজ দুই কিবলামুখী হয়ে সম্পন্ন হয়েছিল৷ নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ওহি পাওয়ার পর ‘মসজিদ আল-আকসা’ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নামাজের মাঝখানে মক্কামুখী হয়ে পরবর্তী অংশ সম্পন্ন করা হয়৷ এ জন্য এ মসজিদের নাম কিবলাতাঈন (দুই কিবলা মসজিদ) রাখা হয়৷ মসজিদের ভেতরে মূল পুরোনো মসজিদের অংশ অক্ষত রেখে চারদিকে দালান করে মসজিদ বাড়ানো হয়েছে৷ মসজিদে কুবা: হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় আগমন করে প্রথম শহরের প্রবেশদ্বারে কুবায় নামাজ পড়েন৷ পরে এখানে মসজিদ গড়ে ওঠে৷ কুবায় এসে আপনি দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারেন৷ ওহুদ: ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় যুদ্ধ এটি৷ দুই মাথাওয়ালা একটি পাহাড়, দুই মাথার মাঝখানে একটু নিচুমতো-এটাই ওহুদের পাহাড়৷ তৃতীয় হিজরির শাওয়াল মাসে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়৷ মসজিদে মিকাত: মদিনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে মসজিদে নববী থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এ মসজিদটি অবস্থিত৷ ঐতিহাসিক ‘আকীক উপত্যকা’র পশ্চিম পাশে মসজিদটি রয়েছে৷ রাসূলুল্লাহ (সা.) হজ বা উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাওয়ার সময় এখানকার একটি গাছের নিচে অবতরণ করতেন এবং সেখানে সালাত আদায় করে উমরাহ অথবা হজের ইহরাম বাঁধতেন৷ এ কারণেই মসজিদটিকে ‘শাজারাহ্’ বলা হয়৷ মদিনাবাসীর মিকাত বলে এ মসজিদটি মসজিদে মিকাত নামে পরিচিত৷ মসজিদে জুমু’আ: রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতের সময় কুবার অদূরে রানুনা উপত্যকায় ১০০ জন সাহাবাকে নিয়ে মসজিদে জুমু’আর স্থানে প্রথম জুমু’আর সালাত আদায় করেন৷ মসজিদে গামামাহ: এ মসজিদকে মোসাল্লাহও বলা হয়৷ রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম ঈদের সালাত ও শেষ জীবনের ঈদের সালাতগুলো মসজিদে গামামাহর স্থানে আদায় করেন৷ এ স্থানে রাসূলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়েছেন বলে একে মসজিদে গামামাহ বলা হয়৷ এটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত৷ মসজিদে আবু বকর (রা.): এটি মসজিদে গামামাহর উত্তরে অবস্থিত৷ হজরত আবু বকর (রা.) খলিফা থাকাকালে এ মসজিদে ঈদের সালাত পড়ান৷ তাই এটি মসজিদে আবু বকর (রা.) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে৷ মসজিদে কুবা, কিবলাতাঈন, ওহুদ পাহাড়, খন্দকের পাহাড় প্রভৃতি দেখার জন্য মসজিদে নববীর বাইরে প্রবেশপথের কাছে ট্যাক্সিচালকেরা প্যাকেজের ব্যবস্থা করেন৷ সময় পেলে দেখতে পারেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাদশাহ ফাহাদ কোরআন শরিফ ছাপা প্রকল্প৷ এখানে কোরআন শরিফ ছাপা হয়৷ মদিনায় আরও বেশি সময় পেলে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান দেখে আসতে পারেন ৷ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.)-এর কক্ষেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত হয় এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়৷ মসজিদ সম্প্রসারণ করার পর বর্তমানে তাঁর কবর মোবারক মসজিদে নববীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে৷ রাসূলে করিম (সা.)-এর রওজা মোবারকের ডানদিকে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর কবর৷ মাতাফ কাবাঘরের চারদিকে অবস্থিত তওয়াফের স্থানকে ‘মাতাফ’ বা চত্বর বলা হয়৷ হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর হাজরে আসওয়াদ কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্বকোণে মাতাফ (তাওয়াফের জায়গা) থেকে দেড় মিটার ওপরে লাগানো৷ হাজরে আসওয়াদ তাওয়াফ (কাবা শরিফ সাতবার চক্কর দেওয়া) শুরুর স্থান৷ প্রতিবার চক্কর দেওয়ার সময় এই হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতে হয়৷ ভিড়ের কারণে না পারলে চুমুর ইশারা করলেও চলে-এটিই নিয়ম৷ ফ্রেমের মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে পাথরে চুমু দিতে হয়৷ মুখ না ঢোকালে চুমু দেওয়া সম্ভব নয়৷ আর মুখ ঢোকাতে গিয়ে সৃষ্টি হয় প্রচণ্ড ভিড়৷ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যাকুল হয়ে ওঠেন৷ হাজরে আসওয়াদের পাশে সৌদি পুলিশ দাঁড়ানো থাকে ২৪ ঘন্টা৷ মাথা ঢোকাতে বা চুমু দিতে গিয়ে কেউ যেন কষ্ট না পান তা তাঁরা খেয়াল রাখেন৷ পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও চুমু দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করেন৷ মাকামে ইব্রাহিম কাবা শরিফের পাশেই আছে ক্রিস্টালের একটা বাক্স, চারদিকে লোহার বেষ্টনী৷ ভেতরে বর্গাকৃতির একটি পাথর৷ পাথরটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচচতা সমান, প্রায় এক হাত৷ এই পাথরটিই মাকামে ইব্রাহিম৷ মাকাম শব্দের একটি অর্থ হচেছ দাঁড়ানোর স্থান৷ অর্থাৎ হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর স্থান৷ এই পাথরে দাঁড়িয়ে তিনি ঠিক কী কাজ করতেন তা নিয়ে মতভেদ আছে৷ তবে তিনি এর ওপর দাঁড়িয়ে কাবা শরিফ নির্মাণ করেছেন-এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য৷ হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মু’জিজার কারণে শক্ত পাথরটি ভিজে তাতে তাঁর পায়ের দাগ বসে যায়৷ আজও আছে সেই ছাপ৷ তামা ও আয়নার তৈরি বাক্সে রাখার আগ পর্যন্ত মানুষ পাথরটি হাতে ধরে দেখার সুযোগ পেয়েছে৷ এখন শুধু দেখা যায়, ধরা যায় না৷ মানুষের হাতের স্পর্শে ও জমজমের পানি দিয়ে ধোয়ায় পাথরটির ভেতরে কিছুটা ডিম্বাকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে৷ চার হাজার বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মাকামে ইব্রাহিমে এখনো পায়ের চিহ্ন অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিশ্বাস করে, কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে৷ ওপরে প্রতিটি ছাপের দৈর্ঘ্য ২৭ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১৪ সেন্টিমিটার৷ পাথরের নিচের অংশে রুপাসহ প্রতিটি পায়ের দৈর্ঘ্য ২২ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১১ সেন্টিমিটার৷ দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান প্রায় এক সেন্টিমিটার৷ পাথরটিতে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পায়ের দাগের গভীরতা পাথরটির উচচতার অর্ধেক, ৯ সেন্টিমিটার৷ দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ মানুষের হাতের স্পর্শে আঙুলের চিহ্নগুলো মুছে গেছে৷ তবে ভালো করে খেয়াল করলে এখনো আঙুলের ছাপ বোঝা যায়৷ বোঝা যায় পায়ের গোড়ালির চিহ্ন৷ মাকামে ইব্রাহিমের কাছে বাঁ ঘেঁষে অনেক মুসল্লি নামাজ পড়েন, অনবরত চলে তাওয়াফ৷ কাবার গিলাফ আরবরা কাবাকে আবৃত করে রাখা কাপড়টিকে বলে কিসওয়া আর আমরা বলি গিলাফ৷ হজের কয়েক দিন আগে থেকেই কাবা শরিফের গিলাফের নিচু অংশ ওপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়৷ এতে কাবা শরিফের দেয়ালের বাইরের অংশ দেখা ও ধরা যায়৷ কাবা শরিফের দরজা ও বাইরের গিলাফ দুটোই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়৷ গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরো বানানো হয়৷ চারটি টুকরো চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরোটি দরজায় লাগানো হয়৷ টুকরোগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত৷ প্রতি বছর ৯ জিলহজ কাবা শরিফের গায়ে পরানো হয় এই নতুন গিলাফ৷ সেই দিন হজের দিন৷ হাজিরা আরাফাত থেকে ফিরে এসে কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ দেখতে পান৷ নতুন গিলাফ পরানোর সময় পুরোনো গিলাফটি সরিয়ে ফেলা হয়৷ প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন রেশম দিয়ে তৈরি করা হয় কাবার গিলাফ৷ রেশমকে রং দিয়ে কালো করা হয়৷ পরে গিলাফে বিভিন্ন দোয়ার নকশা অাঁকা হয়৷ গিলাফের উচচতা ১৪ মিটার৷ ওপরের তৃতীয়াংশে ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া বন্ধনীতে কোরআনের আয়াত লেখা৷ বন্ধনীতে ইসলামি কারুকার্য খচিত একটি ফ্রেম থাকে৷ বন্ধনীটি সোনার প্রলেপ দেওয়া রুপালি তারের মাধ্যমে এমব্রয়ডারি করা৷ এই বন্ধনীটা কাবা শরিফের চারদিকে পরিবেষ্টিত৷ ৪৭ মিটার লম্বা বন্ধনীটি ১৬টি টুকরায় বিভক্ত৷ বন্ধনীটির নিচে প্রতি কোনায় সূরা আল-ইখলাস লেখা৷ নিচে পৃথক পৃথক ফ্রেমে লেখা হয় পবিত্র কোরআনের ৬টি আয়াত৷ এতে এমব্রয়ডারি করে ওপরে সোনা ও রুপার চিকন তার লাগানো হয়৷ কাবাঘর কাবাঘর প্রায় বর্গাকৃতির৷ এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে আনুমানিক ৪৫ ও ৪০ ফুট৷ কাবা শরিফের দরজা একটি এবং দরজাটি কাবাঘরের পূর্ব দিকে অবস্থিত৷ মিযাবে রহমত বায়তুল্লাহর উত্তর দিকের ছাদে (হাতিমের মাঝ বরাবর) যে নালা বসানো আছে, তাকে ‘মিযাবে রহমত’ বলা হয়৷ এই নালা দিয়ে ছাদের বৃষ্টির পানি পড়ে৷ হাতিম কাবাঘরের উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার মানুষ-সমান উঁচু প্রাচীরে ঘেরা একটি স্থান৷ জমজম ক‚প দুনিয়াতে আল্লাহ রাববুল আলামিনের যত অনুপম নিদর্শন আছে, তার মধ্যে মক্কা শরিফে অবস্থিত ‘জমজম ক‚প’ অন্যতম৷ জমজম ক‚পের ইতিহাস কমবেশি সবারই জানা৷ এ ক‚পের পানি সর্বাধিক স্বচছ, উৎকৃষ্ট, পবিত্র ও বরকতময়৷ এ পানি শুধু পিপাসাই মেটায় না; এতে ক্ষুধাও নিবৃত্ত হয়৷ এ সম্পর্কে রাসূলে করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘এ পানি শুধু পানীয় নয়; বরং খাদ্যের অংশ এবং এতে পুষ্টি রয়েছে৷’ গারে হেরা মক্কার সর্বাধিক উচচ পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান৷ এখানে নবী করিম (সা.) ধ্যানমগ্ন থাকতেন এবং এখানেই সর্বপ্রথম ওহি নাজিল হয়৷ গারে সাওর মসজিদুল হারামের পশ্চিমে হিজরতের সময় এই প্রকাণ্ড সুউচচ পাহাড়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) তিন দিন অবস্থান করেছিলেন৷ জাবাল-ই-রহমত আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত৷ এ পাহাড়ে সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল হয়৷ এখানে তিনি বিবি হাওয়া (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান৷ ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের খুতবাও এখান থেকেই দিয়েছিলেন৷ জান্নাতুল মুআল্লা মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে মক্কা শরিফের বিখ্যাত কবরস্থান৷ মক্কায় যা দেখবেন মক্কায় কাবা শরিফ ছাড়াও - মক্কা লাইব্রেরি
- মক্কা জাদুঘর
- কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা
- জাবাল-ই-রহমত (আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত
- জাবাল-ই-নূর (যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ধ্যান করতেন;এখানে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হয়)
- মিনায় আল-খায়েফ মসজিদ
- নামিরা মসজিদ
- আরাফাতের ময়দান
- মুজদালিফা
- জাবাল-ই-সাওর
হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় কিসওয়া তৈরির কারখানা দেখে আসতে পারেন৷ ট্যাক্সিতে কাবা শরিফ থেকে পৌঁছে যাবেন কিসওয়া৷ পাশেই মক্কা-মদিনার দুই হারাম শরিফে ব্যবহূত জাদুঘর৷ জাদুঘরে দেখতে পাবেন বিভিন্ন রকম কিসওয়া (কাবার গিলাফ)৷ সেখানে অনেক বাংলাদেশি চাকরি করেন৷ তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন৷ এ ছাড়াও প্রভৃতি ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে আসা যায়৷ দোয়া কবুলের জায়গা পবিত্র মক্কায় কাবা শরিফের বিভিন্ন জায়গায় দোয়া কবুল হয়ে থাকে৷ সেসব জায়গায় খুব আদব, ভক্তি ও বিনয়ের সঙ্গে খাস দিলে দোয়া করা দরকার৷ দুনিয়ার যাবতীয় জায়েজ নেক মাকসুদের জন্য দোয়া করা উচিত৷ - মাতাফ-তাওয়াফ করার স্থানকে মাতাফ বলে৷
- মুলতাযাম-হাজরে আসওয়াদ থেকে বায়তুল্লাহর দরজা পর্যন্ত স্থানে৷
- হাতিমের মধ্যে৷
- মিযাবে রহমতের মধ্যে৷
- কাবাঘরের ভেতরে৷
- জমজম ক‚পের কাছে (যদিও ক‚প এখন বেজমেন্টের নিচে, চাইলেও এখন দেখা যায় না)৷
- মাকামে ইবরাহীমের কাছে৷
- সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ওপর৷
- সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে৷
- বায়তুল্লাহর দিকে যখন নজর পড়ে৷
- রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে৷
- আরাফাতের ময়দানে৷
- মুজদালিফার ময়দানে৷
- মিনার ময়দানে এবং মিনার মসজিদে খায়েফে৷
- কঙ্কর মারার স্থানে৷
|